মধুমতি : কিছু অ-গোছানো ঝটিতি ভাবনা
অথবা এ লেখার নাম হতে পারতো : ও মধু , ও মধু আই লাভ ইউ . . . আই লাভ ইউ . . . ১
" আমাদের দেশে আবাল্য প্রত্যেকের নানা ধরনের কল্পনা দেখিতে পাহ , বাঙালী কল্পনাপ্রবণ জাতি । জাতির দিক হইতে ইহা তাহার একটি গুণ । কল্পনা তাহার কেমন সে কথা বলিতে আমরা চেষ্টা করিব। এ কল্পনার মধ্যে বৈষয়িক লক্ষণ অতি অল্পই আছে , সব ক্ষেত্রেই তাহার মন অত্যন্ত দূরত্বই চায় । কোথাও গিয়া সে নিজেকে লইয়া থাকিবে । তাহার আদর্শ হইয়া যে ছবিটি ক্রিয়াশীল তাহা বিস্ময়কর । যদিচ তেমন অন্য দেশেও দেখা যায় , কিন্তু তাহার রচনাপদ্ধতির একটু ভিন্ন সমতল শেষে মেশে একটি দিগন্তের সহিত , দূরে তখনও সূর্য্য আছে , নদী - তাহাতে নোউকা , নদী - তাহাতে কুটির , - কখনও তাল অথবা নারিকেল গাছ , অত্যন্ত সাধারণ , - অত্যন্ত আটপৌরে তাহার কল্পনা হইলেও ইহা একটি বিশেষ বাস্তব । একটি শান্তির ছবি । " এই কথা কমলকুমার মজুমদার লিখছেন । ছবি " মধুমতির " গল্পকার বাঙালী ঋত্বিক ঘটক , ছবিটির নির্মাতা নির্দেশক বাঙালী বিমল রায় । কিন্তু কমলকুমারের বাঙালী শিল্পবোধ এর প্রতি এই টিপ্পণী , এই ছবির দৃশ্য ও আঙ্গিক বিচারে , এখানেই প্রমাণিত হয়ে যায় না । আমাদের বিস্তর ভাবতে উস্কে দেয় । ছবির অভিনেতারা , অন্তত যাদেরকে কেন্দ্র স্থানাংকে অথবা তার আশপাশে রেখে মূল ঘটনাগুলি রচিত হচ্ছে তারা কেউ বাঙালী নন । কিন্তু এই চীরফ্যান্টাসীকে , যার প্রতি শুধু ইঙ্গিতই নয় , যা সম্বন্ধেই কমলকুমার লিখেছেন , তা তলিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে । নাগরিক একঘেয়েমির কক্ষ থেকে ছিটকে বেরিয়ে , সুখী শব্দহীনতা খোঁজাই কি এ ফ্যান্টাসির লক্ষ্য ? নাকি এই অতিস্বাভাবিক স্বপ্নও , আরেক সমান্তরাল দম্ভ আর দাবীরই এক্সটেনশান - আমরা প্রশ্ন করবো । আমরা দূরে . . . আরো দূরে যে জমি , যেখানে মানুষের উদ্যমের তার বিশাল জ্ঞানের থাবা বসেনি অথবা বিলুপ্ত . . . সেখানে আমরা দাগ কাটবো না ? সেখানে আমরা আবার নিজেদের প্রাণচিহ্ন স্থাপন করবো না - শারীরিকশ্রম পত্তনের দাবী করবো না ? নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই । এই ফ্যান্টাসির বোগোলে পাপ জমে থাকে - সেখান থেকেই সিনেমার শরীর ফেটে কারি কারি থলথলে দৃশ্য ও তার উপযোগী লোকেশন বেরিয়ে এসেছে ।
আধুনিক আমলাতন্ত্রের একজন পাতি কর্মচারী আনন্দ , তার সাথে বড় প্রকৃতির আলাপ কিন্তু প্রথম শব্দে । সুরে । যা সম্ভবত শিল্পের সবচাইতে অশরীরী রূপ । কিন্তু দর্শকের এক আস্ত শরীর চাই । সিনেমার গল্প বিন্যাস , সেও এই শরীর কামনা করে । সুরের যেমন কথার , আত্মার যেমন শরীর তেমন বস্তুরও চোখ প্রয়োজন হয় । মধুর শরীর এখানে সেই বস্তু - নিখুঁত বিক্রয়যোগ্য অবয়ব । ভাবি : যদি মধু প্রকৃতির এক সীমিত আকার হয়ে , মানুষের চোখের সামনে না আসতো ; যদি মানুষের নিজেদের রেসের প্রোডাক্ট হিসেবে কোনো মধুকে দেখা না যেতো , যার সাথে আমাদের চোখ চট করে সম্বন্ধ করতে পারে - যার দিকে চোম্বকের মতন আকর্ষিত হই - যা আমাদের ব্যাকরণের ধাঁচ - তাহলে গোটা ছবিটি কী হতো . . .
আনন্দ যখন মধুর ছবি আঁকে , ঝড়ো হাওয়ায় তার কুটিরে চলে যায় কিংবা যখন বনদেবতার সামনেই তাকে সিঁদুর পড়ায় - এসব প্রেমিকের ক্রিয়া হতে পারে না । লোভীর কোউশলও হতে পারে । সে কোন অধিকারের তাড়না থেকে এসব করে বসে তা আমাদের বুঝতে অসুবিধে হয় না - ঝুলি থেকে আধুনিক ঔপনিবেশিক চেতনা , ভালোমন্দের সুলভ বাইনারি , আধুনিক রাষ্ট্রের আচরণ - এসব ইশারা বেরিয়ে আসে । এসব বর্ণনা করা , সেও এক ফন্দি । শুধু এটুকু মেনে নিলেই কিছু পাপ সন্তুষ্ট হয় যে , আনন্দ নিজেই একটি রাষ্ট্র । আর উগ্রনারায়ণ সেই রাষ্ট্রেরই আরেক ইতিহাস । সে জমিদার - কাজেই ভূভারতের সামন্তপ্রণালীর অবশিষ্ট মাংস ও চেতনা । আনন্দের সাথে তার ফারাক অনেক জায়গায় - সেসব তারতম্য মূলত ভঙ্গির । কিন্তু পুরানোর আধুনিক সংস্করণ আনন্দের সাথে থাকে আইনের লাইসেন্স , আইনের ভরসা । অফিসার যখন বলে , তাকে সাহায্য করা আইনের কর্তব্য - তখন আমাদের প্রচুর অস্বস্তির মধ্যেও বুঝে নিতে হবে - এই " তাকে " টি কারা-কী-কেনো . . .
মাঝে একটি দৃশ্য নিয়ে কিছু ভাবনা : যে দৃশ্যে আনন্দ দুদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছে । ফাঁদ উগ্রনারায়ণের । মোটামোটি পাথুরে গুহার ভেতরে মধু আনন্দকে বনদেবতা দর্শনে নিয়ে যায় । সেই প্রথম আমরা বনদেবতাকে দেখি , িযনি মধুর কেন্দ্রপিতা-কেন্দ্রমাতা , প্রাগঐতিহাসিক মাতৃতান্ত্রিকতার আদিম চিত্র - তাকে আমরা সিনেমার স্ক্রিনে দেখছি । চারটি শট : প্রথম শটে আনন্দকে দেখলাম , মধুর দিকে তাকিয়ে - দ্বিতীয় শটে আনন্দের দৃষ্টিকোণে মধুকে - এবারে মধুর দৃষ্টিকোণ থেকে বনদেবতাকে দেখছি এতে এই হলো : আনন্দের গেজ মধুকে মাধ্যম করে বনদেবতার কাছে পোউছালো - আর দেবতা সে নজর নাকচ করে ফুল গড়িয়ে দিলেন । মধু যে অনুমতি কামনা করেছিলো তার আগাম ভবিতব্য বলে দিলেন তিনি । কিন্তু তা সত্ত্বেও আনন্দের স্পৃহা ও ঔদ্ধত্য তাকে দিয়ে , মধুর সিঁথি ভরিয়ে দিলো - এও এক প্রকারের হরণ , যা শেকড় থেকে আত্মাকে হিঁচড়ে বের করতে চায় ।
আরেকটি দৃশ্য : বনরক্ষক , দেবতার সেবক মধুর বাপের হাত থেকে কুঠার পড়ে গেলো - তা পরাজয়ের , অক্ষমতা কিংবা বিজ্ঞর নীরব ভাঙচুর হতে পারে - সম্মতি নয় । মধুর নিখোঁজ হবার পরবর্তী তার নির্লিপ্ততা সেই পরাজয়বোধেরই সপক্ষে আচরণ । কোনো এক ইন্দ্রিয়ধর্মী গুহ্য মন্ত্রে যেন তিনি জেনেছিলেন এই পরিণতি । সে মেয়ের কাপড় হাতে নিজের মেয়েরই মৃত্যু সংবাদ যেভাবে প্রেরণ করেন - সে স্বর " সুবর্ণরেখার " ঈশ্বরের স্বর । দৃশ্য থেকে দৃশ্যতর বাস্তবে এই স্বর তলে তলে যে কম্পন ছড়িয়ে দেয় তা আরো বেশী অরূন্তূদ - আরো বেশী আগূন্তূক । সেই তো হিরো যার নাভিতে এই অস্পৃশ্য ট্র্যাজেডি তেরী হয়েছে ।

আর রক্ত থেকে রক্ত মিশিয়ে এই যে পাপের উত্সব তা এ ছবির গায়ে থকথকে ক্ষতের মাফিক সারাক্ষণ পাক খেয়েছে । তা ছিলো গাড়ীর আওয়াজে , হাঁটাচলার দেমাকে , তা ছিলো বাঙলোর নকশায় - যে নকশায় কক্ষ প্রচুর - মেয়েটি যখন বাংলোয় ঢোকে বুঝি এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে বাঁক জটিল , পেচালো। আর এক একটি কক্ষের পরে এক একটি সুঠাম দরজা - যেন কাফ্কার " ইন দ্য পেনাল কলোনির " অ্যাপারেটাস রচিত হচ্ছে - যেন বাংলোটির এই অ্যানাটোমি অর্থের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা আমাদের মানসিক প্রজন্মের বিবর্তনের অতীত কাঠামো ।
অথবা এ লেখার নাম হতে পারতো : ও মধু , ও মধু আই লাভ ইউ . . . আই লাভ ইউ . . . ১
" আমাদের দেশে আবাল্য প্রত্যেকের নানা ধরনের কল্পনা দেখিতে পাহ , বাঙালী কল্পনাপ্রবণ জাতি । জাতির দিক হইতে ইহা তাহার একটি গুণ । কল্পনা তাহার কেমন সে কথা বলিতে আমরা চেষ্টা করিব। এ কল্পনার মধ্যে বৈষয়িক লক্ষণ অতি অল্পই আছে , সব ক্ষেত্রেই তাহার মন অত্যন্ত দূরত্বই চায় । কোথাও গিয়া সে নিজেকে লইয়া থাকিবে । তাহার আদর্শ হইয়া যে ছবিটি ক্রিয়াশীল তাহা বিস্ময়কর । যদিচ তেমন অন্য দেশেও দেখা যায় , কিন্তু তাহার রচনাপদ্ধতির একটু ভিন্ন সমতল শেষে মেশে একটি দিগন্তের সহিত , দূরে তখনও সূর্য্য আছে , নদী - তাহাতে নোউকা , নদী - তাহাতে কুটির , - কখনও তাল অথবা নারিকেল গাছ , অত্যন্ত সাধারণ , - অত্যন্ত আটপৌরে তাহার কল্পনা হইলেও ইহা একটি বিশেষ বাস্তব । একটি শান্তির ছবি । " এই কথা কমলকুমার মজুমদার লিখছেন । ছবি " মধুমতির " গল্পকার বাঙালী ঋত্বিক ঘটক , ছবিটির নির্মাতা নির্দেশক বাঙালী বিমল রায় । কিন্তু কমলকুমারের বাঙালী শিল্পবোধ এর প্রতি এই টিপ্পণী , এই ছবির দৃশ্য ও আঙ্গিক বিচারে , এখানেই প্রমাণিত হয়ে যায় না । আমাদের বিস্তর ভাবতে উস্কে দেয় । ছবির অভিনেতারা , অন্তত যাদেরকে কেন্দ্র স্থানাংকে অথবা তার আশপাশে রেখে মূল ঘটনাগুলি রচিত হচ্ছে তারা কেউ বাঙালী নন । কিন্তু এই চীরফ্যান্টাসীকে , যার প্রতি শুধু ইঙ্গিতই নয় , যা সম্বন্ধেই কমলকুমার লিখেছেন , তা তলিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে । নাগরিক একঘেয়েমির কক্ষ থেকে ছিটকে বেরিয়ে , সুখী শব্দহীনতা খোঁজাই কি এ ফ্যান্টাসির লক্ষ্য ? নাকি এই অতিস্বাভাবিক স্বপ্নও , আরেক সমান্তরাল দম্ভ আর দাবীরই এক্সটেনশান - আমরা প্রশ্ন করবো । আমরা দূরে . . . আরো দূরে যে জমি , যেখানে মানুষের উদ্যমের তার বিশাল জ্ঞানের থাবা বসেনি অথবা বিলুপ্ত . . . সেখানে আমরা দাগ কাটবো না ? সেখানে আমরা আবার নিজেদের প্রাণচিহ্ন স্থাপন করবো না - শারীরিকশ্রম পত্তনের দাবী করবো না ? নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই । এই ফ্যান্টাসির বোগোলে পাপ জমে থাকে - সেখান থেকেই সিনেমার শরীর ফেটে কারি কারি থলথলে দৃশ্য ও তার উপযোগী লোকেশন বেরিয়ে এসেছে ।
আধুনিক আমলাতন্ত্রের একজন পাতি কর্মচারী আনন্দ , তার সাথে বড় প্রকৃতির আলাপ কিন্তু প্রথম শব্দে । সুরে । যা সম্ভবত শিল্পের সবচাইতে অশরীরী রূপ । কিন্তু দর্শকের এক আস্ত শরীর চাই । সিনেমার গল্প বিন্যাস , সেও এই শরীর কামনা করে । সুরের যেমন কথার , আত্মার যেমন শরীর তেমন বস্তুরও চোখ প্রয়োজন হয় । মধুর শরীর এখানে সেই বস্তু - নিখুঁত বিক্রয়যোগ্য অবয়ব । ভাবি : যদি মধু প্রকৃতির এক সীমিত আকার হয়ে , মানুষের চোখের সামনে না আসতো ; যদি মানুষের নিজেদের রেসের প্রোডাক্ট হিসেবে কোনো মধুকে দেখা না যেতো , যার সাথে আমাদের চোখ চট করে সম্বন্ধ করতে পারে - যার দিকে চোম্বকের মতন আকর্ষিত হই - যা আমাদের ব্যাকরণের ধাঁচ - তাহলে গোটা ছবিটি কী হতো . . .
আনন্দ যখন মধুর ছবি আঁকে , ঝড়ো হাওয়ায় তার কুটিরে চলে যায় কিংবা যখন বনদেবতার সামনেই তাকে সিঁদুর পড়ায় - এসব প্রেমিকের ক্রিয়া হতে পারে না । লোভীর কোউশলও হতে পারে । সে কোন অধিকারের তাড়না থেকে এসব করে বসে তা আমাদের বুঝতে অসুবিধে হয় না - ঝুলি থেকে আধুনিক ঔপনিবেশিক চেতনা , ভালোমন্দের সুলভ বাইনারি , আধুনিক রাষ্ট্রের আচরণ - এসব ইশারা বেরিয়ে আসে । এসব বর্ণনা করা , সেও এক ফন্দি । শুধু এটুকু মেনে নিলেই কিছু পাপ সন্তুষ্ট হয় যে , আনন্দ নিজেই একটি রাষ্ট্র । আর উগ্রনারায়ণ সেই রাষ্ট্রেরই আরেক ইতিহাস । সে জমিদার - কাজেই ভূভারতের সামন্তপ্রণালীর অবশিষ্ট মাংস ও চেতনা । আনন্দের সাথে তার ফারাক অনেক জায়গায় - সেসব তারতম্য মূলত ভঙ্গির । কিন্তু পুরানোর আধুনিক সংস্করণ আনন্দের সাথে থাকে আইনের লাইসেন্স , আইনের ভরসা । অফিসার যখন বলে , তাকে সাহায্য করা আইনের কর্তব্য - তখন আমাদের প্রচুর অস্বস্তির মধ্যেও বুঝে নিতে হবে - এই " তাকে " টি কারা-কী-কেনো . . .
মাঝে একটি দৃশ্য নিয়ে কিছু ভাবনা : যে দৃশ্যে আনন্দ দুদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছে । ফাঁদ উগ্রনারায়ণের । মোটামোটি পাথুরে গুহার ভেতরে মধু আনন্দকে বনদেবতা দর্শনে নিয়ে যায় । সেই প্রথম আমরা বনদেবতাকে দেখি , িযনি মধুর কেন্দ্রপিতা-কেন্দ্রমাতা , প্রাগঐতিহাসিক মাতৃতান্ত্রিকতার আদিম চিত্র - তাকে আমরা সিনেমার স্ক্রিনে দেখছি । চারটি শট : প্রথম শটে আনন্দকে দেখলাম , মধুর দিকে তাকিয়ে - দ্বিতীয় শটে আনন্দের দৃষ্টিকোণে মধুকে - এবারে মধুর দৃষ্টিকোণ থেকে বনদেবতাকে দেখছি এতে এই হলো : আনন্দের গেজ মধুকে মাধ্যম করে বনদেবতার কাছে পোউছালো - আর দেবতা সে নজর নাকচ করে ফুল গড়িয়ে দিলেন । মধু যে অনুমতি কামনা করেছিলো তার আগাম ভবিতব্য বলে দিলেন তিনি । কিন্তু তা সত্ত্বেও আনন্দের স্পৃহা ও ঔদ্ধত্য তাকে দিয়ে , মধুর সিঁথি ভরিয়ে দিলো - এও এক প্রকারের হরণ , যা শেকড় থেকে আত্মাকে হিঁচড়ে বের করতে চায় ।
আরেকটি দৃশ্য : বনরক্ষক , দেবতার সেবক মধুর বাপের হাত থেকে কুঠার পড়ে গেলো - তা পরাজয়ের , অক্ষমতা কিংবা বিজ্ঞর নীরব ভাঙচুর হতে পারে - সম্মতি নয় । মধুর নিখোঁজ হবার পরবর্তী তার নির্লিপ্ততা সেই পরাজয়বোধেরই সপক্ষে আচরণ । কোনো এক ইন্দ্রিয়ধর্মী গুহ্য মন্ত্রে যেন তিনি জেনেছিলেন এই পরিণতি । সে মেয়ের কাপড় হাতে নিজের মেয়েরই মৃত্যু সংবাদ যেভাবে প্রেরণ করেন - সে স্বর " সুবর্ণরেখার " ঈশ্বরের স্বর । দৃশ্য থেকে দৃশ্যতর বাস্তবে এই স্বর তলে তলে যে কম্পন ছড়িয়ে দেয় তা আরো বেশী অরূন্তূদ - আরো বেশী আগূন্তূক । সেই তো হিরো যার নাভিতে এই অস্পৃশ্য ট্র্যাজেডি তেরী হয়েছে ।

আর রক্ত থেকে রক্ত মিশিয়ে এই যে পাপের উত্সব তা এ ছবির গায়ে থকথকে ক্ষতের মাফিক সারাক্ষণ পাক খেয়েছে । তা ছিলো গাড়ীর আওয়াজে , হাঁটাচলার দেমাকে , তা ছিলো বাঙলোর নকশায় - যে নকশায় কক্ষ প্রচুর - মেয়েটি যখন বাংলোয় ঢোকে বুঝি এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে বাঁক জটিল , পেচালো। আর এক একটি কক্ষের পরে এক একটি সুঠাম দরজা - যেন কাফ্কার " ইন দ্য পেনাল কলোনির " অ্যাপারেটাস রচিত হচ্ছে - যেন বাংলোটির এই অ্যানাটোমি অর্থের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা আমাদের মানসিক প্রজন্মের বিবর্তনের অতীত কাঠামো ।





No comments:
Post a Comment